নিজস্ব সংবাদদাতা
শহরের চাষাঢ়ায় ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ রেস্টুরেন্টে গুলি বর্ষণের ঘটনায় সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার (৬ ফেব্রæয়ারি) ওই রেস্টুরেন্টের মালিক শুক্কুর আলী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতারকৃত মার্কেট মালিক আজাহার তালুকদার ও তার ছেলে আরিফ তালুকদার মোহনকে আসামী করা হয়েছে। গুলিবর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত বাবা-ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। সোমবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথির আদালতে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৭ ফেব্রæয়ারি) শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎ বিল ও পানির সংযোগকে কেন্দ্র করে রোববার (৫ ফেব্রæয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আঙ্গুরা শপিং কমপ্লেক্স ভবনের মালিক আজাহার তালুকদারের অস্ত্রের গুলিতে গুরুতর আহত হন ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ রেঁস্তোরার ম্যানেজার শফিউর রহমান কাজল ও কর্মচারী জনি। পরে গুলিবিদ্ধদের গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মার্কেট মালিক আজাহার তালুকদার ও তার ছেলেকে ২টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে। উল্লেখ্য, রোববার শহরের চাষাঢ়াআঙ্গুরা প্লাজায় ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে প্রকাশ্যে গুলি ছুড়েন ভবন মালিক আজাহার তালুকদার। এসময় ওই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সফিউর রহমান কাজলসহ কর্মচারী জনি গুলিবিদ্ধ হন। এসময় ঘটনাস্থলের চারপাশে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ভয়ে দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আজাহার তালুকদার ও তার ছেলে আরিফ তালুকদার মোহনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেছে। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এরআগেই শত শত উৎসুক জনতা ভীড় করে ঘটনাস্থলে। ওই রেস্টুরেন্টের অপর এক ম্যানেজার রিপন সাহা জানান, ভবন মালিক আজাহার তালুকদার রেস্টুরেন্টে এসে দোতলায় যান। সেখানে গিয়ে রেস্টুরেন্টের মালিকের সাথে কথা বলে চলে যান। কিছুক্ষন পর আবার ফিরে এসে হাতে থাকা পিস্তল থেকে ৬/৭ রাউন্ড গুলি করেন। এতে ম্যানেজার সফিউর রহমান কাজলের হাতে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তবে তিনি বলতে পারেননি কেন কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। গ্রেফতারকৃত আজিজুল হকের স্ত্রী শারমিন ডলি জানান, পানির বিল নিয়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে এ ঘটনাটি ঘটে। এদিকে ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’র মালিক শুক্কুর জানান, ভবন মালিক আজহার তালুকদার এসে বলেন, পানির বিল বাবদ আপনাকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। আমরা ১০ লাখ টাকা ঋণ হয়ে গেছি। আমি বললাম ১০ লাখ টাকা কেনো দিবো? আমি তো আপনার কাছ থেকে দোকান নেইনি। আর আমি তো পানির বিল প্রতিমাসে দিয়েই যাই। পানিসহ আমার ৮০ হাজার টাকা ভাড়া। পানির জন্য ৫ হাজার, আর দোকান ভাড়া ৭৫ হাজার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার সাথে পূর্ব কোন শত্রæতা ছিল না। শত্রæতা ছিল তারা ভাইয়ে ভাইয়ে। তিনি আরও জানান, আমার বাড়িওয়ালা আজিজুল হক। তার কাছ থেকে আমি দোকান ভাড়া নিয়েছি। কিন্তু আজাহার তালুকদার তো আমার কাছে পানির বিল নিয়ে আসতে পারেন না। তিনি তার ভাইয়ের সাথে বুঝবে। তিনি জানান, পানির বিল নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আজাহার আমাকে খারাপ ভাষায় গালমন্দ করে। পরে আমিও গালি দেই। এরপর সে বলে দাঁড়া আসতাছি। একথা বলে সে চলে যায়। পরক্ষনে এসে সে গুলি করে। এতে আমার ম্যানেজারসহ ২জন আহত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা বলেন, আজহার তালুকদার ও তার ভাই আজিজুল হক সুলতান ভাই কাচ্চির মালিক শুক্কর আলীর কাছে দোকান ভাড়া দিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে আজাহার দাবি করে আসছিলেন যে, পানি বেশি খরচ করায় বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে। বিলের টাকা দিতে হবে। এ নিয়ে দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে আজাহার উত্তেজিত হয়ে বাসায় থাকার তার লাইসেন্স করা শটগান নিয়ে এসে গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় আজহার তালুকদার ও তার ছেলে আরিফ তালুকদার মোহনকে আটক করা হয়েছে। সদর মডেল থানার ওসি আনিচুর রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একটি পিস্তল ও একটি শর্টগান জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর লাইসেন্স রয়েছে কিনা যাচাই বাছাই চলছে। অধিকতর তদন্তের জন্য আসামীদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে কাজল মিয়া নামে গুলিবিদ্ধ এক রেস্টুরেন্ট কর্মচারীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার পেটের নিচের দিকে গুলি লেগেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।